আজ ছোট্ট একটি টিপস এখন যারা নতুন Graphic Design শিখছেন বা শিখতে আগ্রহী তাদের জন্য লিখতে বসলাম। এটাকে দেশী বা বিদেশী প্রিন্টিং জগতের ইনফরমেশনও ভাবতে পারেন। আপনারা যারা গ্রাফিক্স ডিজাইনের সাথে সম্পৃক্ত তাদের জন্য এই তথ্যটি, তো আশা করি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি পড়বেন। আপনারা কেউ ভাববেন না যে এই আর্টিকেল দ্বারা গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখানো হবে বা হচ্ছে, কারণ ইতি মধ্যে আপনারা একজন Graphic Designer। এবং অনলাইনে বিভিন্ন Freelancing Market Place থেকে Money Income করছেন। কিন্তু আপনাদের মধ্যে থেকে অনেকেই প্রিন্টিং জগতের কিছু বিষয় নিয়ে অবগত নাও থাকতে পারেন। যে বিষয়টি হচ্ছে গ্রাফিক্স ডিজাইনের পরবর্তী পদক্ষেপ গুলো কি কি। আমি একঠু বিষয়টি ক্লিয়ার করে আবারও বলছি – অনলাইনে আপনাকে একজন বায়ার একটা বিজনেস কার্ডের অর্ডার করল আপনি সেটা কমপ্লিট করে ফাইলটি ডেলিভারী দিয়ে দিলেন। বায়ার এটা রিসিভ করার পর আপনার কাজ শেষ। কিন্তু অনেকেই জানেন না বায়ার রিসিভ করার পর সেই ডিজাইনটির পরবর্তী প্রসেসটা কি! সে এটা কি করবে! কার কাছে দিবে! কোথায় নিয়ে যাবে! না-কি নিজে নিজে প্রিন্ট করবে!

হ্যা যখন কোনো প্রিন্ট এলিমেন্টের কাজ আপনাকে দিয়ে করাবে যেটা সে অবশ্যই প্রিন্ট করাবে। আর প্রিন্ট করার জন্য থাকে কোনো প্রিন্টিং প্রোডাকশন কোম্পানির কাছে যেতে হবে। যেখানেও থাকে বিভিন্ন প্রসেস অবলম্বন করতে হবে। কারণ তার এই প্রোডাক্ট কি ধরণের কাগজে প্রিন্ট হবে তা বলে দিতে হবে। বাংলাদেশে কাগজের নামের কোন শেষ নেই, ঠিক তেমনি বিদেশী কাগজের নামের কোন শেষ নেই। তাই বায়ার বলে দিতে হবে কোন ধরনের কাগকে সে প্রিন্ট করাবে।

প্রিন্টিং প্রসেস – Printing Process

কাগজ সিলেকশন করার পর চলে আসবে প্রিন্ট করার প্রসেস। চায়না/জাপানের তৈরী শত শত মডেলের মেশিন বাজারে এখন পাওয়া যায়। একেকটা মডেলের মেশিন দেখতে একেক রকম, কোন কোন মেশিন চার কালার একবারে প্রিন্ট করতে পারে, আবার কোনটা দু’বারে বা কোনোটা চার বারেও করতে পারে। এবং এদের ব্যবহার ভিন্ন ভিন্ন কিন্তু কাগজে ছাপা আসবে সবগুলো মেশিন থেকে একই রকম। [বিংশ শতাব্দির শেষ ভাগ পর্যন্ত পা দিয়ে বিদ্যুৎ ছাড়া এই সকল মুদ্রণযন্ত্র ছাপাখানায় ব্যবহার করা হত]

এগুলো মেশিন ব্যবহার করতে করতে একদিন নষ্ট হয়ে যাবে। এর জন্য প্রয়োজন পড়বে একজন মেশিন ইঞ্জিনিয়ারের আর এই সকল মেশিন পরিচালক বা ইঞ্জিনিয়ারের এর চাহিদা বিশ্বব্যাপী ব্যাপক। আমি এতসব বলছি কেন – কারণ এগুলোও প্রিন্টিং প্রসেস এর সাথে জড়িত।

ডাইস/প্লেইট তৈরী মেশিন – CTP

সবগুলো প্রসেস এর পূর্বে প্রিন্টিং কোম্পানি আগে সেই ডিজাইন করা ফাইলের একটা ডাইস তৈরী করে নিতে হবে। এই ডাইস গুলো ডিজাইনের কালারের উপর নির্ভর করবে। আপনার ডিজাইনটি দুই কালারের মধ্যে হলে দুটি ডাইস লাগবে, আর ঈগণক মানে চার কালারে করলে চারটি ডাইস লাগবে।

এখন বাংলাদেশী যে সকল প্রিন্টিং কোম্পানির মেশিন গুলো আছে এই সকল মেশিনে চারটি ডাইস চারবারে ব্যবহার করতে হয়। এবং একটি কাগজকে চার বার ছাপার পর তার অর্জিনাল আউটপুট দেখতে পাওয়া যায়। আবার দেখা যায় বর্তমানের আধুনিকায়নের ফলে চারটি ডাইস একবারে মেশিনে সেট করে, একবারেই চার কালার আউটপুট কাগজে বের করা সম্ভব। [যারা জানেন না প্লেইট বা ডাইস কী? প্লেইট হচ্ছে দেখতে টিনের মত, এ্যালুমিনিয়ামের তৈরী একটি মুদ্রণ অনুষঙ্গ] নতুন যারা তাদের জানা দরকার প্লেইটের পূর্বে ছিল ‘পজেটিভ’ এই পজেটিভ দেখ এক্সরের রিপোর্টের মত! এখন আর বাংলাদেশের প্রিন্টিং কোম্পানিতে ব্যবহৃত হয় না।

কাগজ মডিফাই – Paper Quality

প্রিন্টিং এর পর বায়ারদের রুচি অনুযায়ী প্রিন্ট করা কাগজগুলোকে লেমিনেশন করা হয়। আবার লেমিনেশন বিভিন্ন ধরণের, আমার দেখা অনুযায়ী একটা নরমাল ও আরেকটি ম্যাট লেমিনেশন। নরমাল লেমিনেশনের কাগজগুলো দেখতে একটু চিকচিকে ভাব। এটার প্রাইজও চীপ। আর ম্যাট লেমিনেশন এর কাগজগুলো দেখতে অনেকটা সুন্দর এবং ভদ্র স্টাইলে এই সকল কাগজে হাত দিতেও খুব ভাল লাগে। ডিজাইন যে ভাবে করা হোক, ম্যাট লেমিনেশন করার পর কোন চিকচিকে ভাব দেখা যায় না। অনেকেই এই কাগজগুলো পছন্দ করে।
আবার এই ম্যাট লেমিনেশন করা কাগজগুলোকে আরেকঠু মডিফাই করার জন্য প্রয়োজন পড়ে স্পর্ট করা। আপনারা বুঝে গেছেন এই কাগজ দেখতে কেমন হবে। নিশ্চই হাত দিলে বুঝা যাবে উচুঁ নিচুঁ ভাব।
আর এই স্পর্টের ডিজাইনটা কিন্তু ডিজাইনারকে করে দিতে হবে। যদি বায়ার বলে।

কাটিং মেশিন – Cuting Machine

কাটিং এর কোন নিয়ম নেই আপনি যে ভাবে ডিজাইন করেন না কেন আপনার সেই ডিজাইন অনুযায়ী কাটিং করা হবে। আর এই কাটিং করার জন্য কাটিং মেশিন আছে। এটা ধারালো ব্লেইডের মত দেখতে। আপনার ডিজাইনটি যদি রাউন্ড হয় আর কাটিং করার প্রয়োজন পড়ে, তাহলে এই কাটিং এর ডাইসটিকেও রাউন্ড করে তৈরী করতে হবে। কাটিং করার জন্যও একজন কাটিং অভিজ্ঞ কাটিং ম্যান থাকতে হয়।

পারফেটিং মেশিন

আপনারা অনেকেই বইয়ের কাভার বা বক্স জাতীয় কোন কিছুর ডিজাইন করেছেন, এই জাতীয় জিনিসগুলো ভাজ দিয়ে তৈরী করতে হয়। আর এই ভাজটি করতে হয় পারফেটিং মেশিন দ্বারা। আপনাদেরকে আরেকটু ধারণা দেই- সিঙ্গেল ভিজিটিং কার্ড ব্যাক টু ব্যাক ডিজাইন করেছেন, আবার কোনো কোনো ভিজিটিং কার্ড দেখা যায় ডাবল পার্টের, এটাকে ফোল্ডিং ভিজিটিং কার্ড বলে, আর এই ফোল্ডিং ভিজিটিং কার্ডের মাঝখান দিয়ে একটি ভাজ তৈরী করা হয় সাধারণত এই ভাজটিকে পারফেটিং মেশিন দ্বারা করতে হয়। এর জন্য আলাদা করে একজন অভিজ্ঞ পারফেটিং মেশিন ম্যানের প্রয়োজন হয়।

বাইন্ডিং – Binding Machine

যদি আপনার ডিজাইনটি অনেকগুলো পৃষ্টার বই বা ম্যাগাজিন হয় তাহলে এটিকে বাইন্ডিং করতে হবে। তার জন্য বিভিন্ন ধরণের বাইন্ডিং মেশিন আছে। বাইন্ডিং এর কাজের জন্য একজন বাইন্ডিং ম্যানের প্রয়োজন পড়ে।

আপনি যেহেতু একজন Graphic Designer এবং এই সৃজনশীল পেশায় জড়িত। আপনার প্রত্যেকটি প্রিন্টিং জগতের এ টু জেড প্রসেস সম্পর্কে মোটামোটি আইডিয়া থাকতে হবে। কারণ এতগুলো প্রসেস করার পর, বায়ারের কাছে সেই প্রিন্টিং প্রোডাক্টটি হাতে গিয়ে পৌঁছায়।

আমি আর আর্টিকেলটি দির্ঘায়িত করছি না। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এতক্ষণ সময় দিয়ে পড়ার জন্য। যদি আপনার এই আর্টিকেলটি সম্পর্কে কোনো মতামত থাকে, তাহলে কমেন্ট করে জানাবেন। পরবর্তীতে নতুন কোনো টিপস নিয়ে আবারো হাজির হবো সেই সময় পর্যন্ত UZZAL AHMED এর সাথে থাকুন।

ট্যাগ : ছাপাখানা, প্রিন্টিং প্রেস, অফসেট প্রেস,

Hits: 182

Leave A Comment

All fields marked with an asterisk (*) are required

twenty − 20 =

Shares